প্রতিটা কাজের সামনে দুটো প্রশ্ন

প্রতিটা কাজের সামনে দুটো প্রশ্ন

Photo by Jens Lelie on Unsplash

ঘন জঙ্গলে একটি মাটির পথ দুই দিকে ভাগ হয়ে গেছে
Photo by Jens Lelie on Unsplash

কিছুদিন ধরে একটা চিন্তা আমার মাথায় ঘুরছে। নিজের দৈনন্দিন কাজগুলো নিয়ে ভাবতে গিয়েই চিন্তাটা আসলো।

আমার মনে হয়েছে, আমাদের প্রতিটা কাজকে দুটো প্রশ্নের সামনে দাঁড় করানো উচিত। এটা কি আমাকে এগিয়ে নিচ্ছে? আর এটা কি আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়?

بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ۝ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ

“বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাত উত্তম ও চিরস্থায়ী।” (সূরা আ’লা, ৮৭:১৬-১৭)

প্রথম প্রশ্নটা কাজের ফলাফল নিয়ে। কিছু কাজ আমাদের অবস্থাকে উন্নত করে, যেমন — উপার্জন করে জীবনযাত্রার মান বাড়ানো কিংবা পড়াশোনা করে নিজেকে যোগ্য করে তোলা।

আবার কিছু কাজ শুধু কিছুক্ষণের মজা দেয়, যেমন — গান শোনা, সিনেমা দেখা বা সময় কাটানোর জন্য ফোনে স্ক্রল করা। এই কাজগুলো আপনার অবস্থাকে উন্নত করে না। কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগা দিলেও, শেষ পর্যন্ত আপনি আবার আগের জায়গাতেই ফিরে আসেন।

খাবারের উদাহরণটা আমার সবচেয়ে বেশি মনে ধরে। ফাস্ট ফুড বা পেট ভরে বেশি খাওয়ার সময় একটা তৃপ্তি আসে। কিন্তু খাওয়া শেষ হলেই আসে অনুশোচনা আর শরীরের ভারী ভাব। তৃপ্তি উধাও আর আপনার অবস্থা আগের থেকে কোন দিক থেকেই ভালো হয়নি।

দ্বিতীয় প্রশ্নটা আল্লাহর বিচার নিয়ে। দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা, মানুষের উপকার করা, সালাত আদায় করা — এই কাজগুলো আল্লাহ ভালোবাসেন। আর অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ে তিনি সরাসরি বলেছেন -

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا

“তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না।” (সূরা আ’রাফ, ৭:৩১)

গান-বাজনাও কিন্তু ইসলামে নিষিদ্ধ কাজ।

দুটো প্রশ্ন একসাথে মেলালে হিসাবটা সহজ হয়ে যায়। যা আমাকে এগিয়ে নেয় এবং আল্লাহকে খুশি করে, সেটাই আসল লক্ষ্য। হারাম থেকে দূরে থাকতে হবে। আর যা হালাল কিন্তু কোথাও পৌঁছে দেয় না, সেটা হয়তো দোষের নয়, কিন্তু সেটাকে জীবনের লক্ষ্য বানানোও ঠিক নয়।

নিজেকে সবসময় আল্লাহর পছন্দের কাজের মধ্যে রাখার জন্য চিন্তার এই ফ্রেমওয়ার্কটা বেশ কাজের — সুখও ক্ষণস্থায়ী, কষ্টও ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু দুটোর পরিণতিই স্থায়ী।

গুনাহ কিছুক্ষণ আরাম দেয়, তারপর আপনি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসেন, কিন্তু আমলনামায় একটা চিরস্থায়ী মন্দ কাজ যোগ হয়ে যায়। আর ভালো কাজে সাময়িক কষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু তার শেষে থাকে আমলনামায় চিরস্থায়ী একটি নেকি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ

“জান্নাত কষ্টকর বিষয় দ্বারা বেষ্টিত, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তির চাহিদা দ্বারা বেষ্টিত।” (সহীহ মুসলিম, ২৮২২)

আজ রাতে ঘুমানোর আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, আজকের কতটুকু সময় জীবনেরর উন্নতির পেছনে গেল, আর কতটুকু শুধু ক্ষণিকের মজায়? যে কাজে আল্লাহরসন্তুষ্টি আছে আর নিজেও এগোনো যায়, সেই কাজগুলো আজ থেকে একটু করে বাড়িয়ে দিন। হয়তো কঠিন লাগবে, কিন্তু কষ্টটা কয়েক মুহূর্তের, আর সন্তষ্টি থেকে যাবে অনেক দিন পর্যন্ত।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা, ২:২০১)