সত্য কী, আর মিথ্যা কী?

সত্য কী, আর মিথ্যা কী?

Photo by Emily Morter on Unsplash

অন্ধকার সুড়ঙ্গের মাঝে আলোর প্রশ্নবোধক চিহ্ন
Photo by Emily Morter on Unsplash

আজকের হালাকায় ডা. সাইফুল্লাহ একটা প্রশ্ন করলেন যা শুনে আমরা সবাই থমকে গেলাম।

প্রশ্নটা ছিল খুবই সাধারণ — “সত্য কী, আর মিথ্যা কী?”

আমরা সবাই ভাবলাম, এটা তো খুব সহজ প্রশ্ন। কিন্তু কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারলাম না। তখন তিনি আমাদের শেখালেন একটা সংজ্ঞা যা সাধারণত আমরা জানি না।

সত্য (সিদক্ব) এর সংজ্ঞা:

কোনো কথা পুরোপুরি সত্য হবে তখনই, যখন তা দুটো জিনিসের সাথে মিলে যায় —

১) বাস্তবতার সাথে (যা বলা হচ্ছে তা বাস্তবে ঠিক কিনা)

২) বক্তার অন্তরের সাথে (সে নিজে যা বিশ্বাস করছে, তাই বলছে কিনা)

মিথ্যা (কিযব) এর সংজ্ঞা:

এর বিপরীত। কথা ও বাস্তবতার মধ্যে অমিল, অথবা কথা ও অন্তরের মধ্যে অমিল।

এখন এখানেই আসে সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ — মুনাফিকদের ঘটনা।

সূরা মুনাফিকুনে (৬৩:১) আল্লাহ বলেন, মুনাফিকরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আসত, তারা বলত — “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।”

এই কথাটা কি সত্য ছিল? হ্যাঁ! একদম বাস্তবতার সাথে মিলে যাচ্ছিল — রাসূলুল্লাহ ﷺ আসলেই আল্লাহর রাসূল ছিলেন।

কিন্তু আল্লাহ পরের আয়াতেই বলেন — “আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।”

কথাটা তো সত্য ছিল, তাহলে তাদের মিথ্যাবাদী বলা হলো কেন?

কারণ তাদের মুখের কথা আর অন্তরের বিশ্বাস এক ছিল না। মুখে স্বীকার করছে, কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস নেই। তাই বাক্যটি বাস্তবতার সাথে সত্য হলেও, এটা তাদের পক্ষ থেকে একটা মিথ্যা সাক্ষ্য — কারণ সাক্ষ্য (শাহাদাহ) এর জন্য শুধু কথা সঠিক হলে চলে না, অন্তর থেকেও বিশ্বাস থাকতে হয়।

এখান থেকে আমরা শিখলাম — সত্যতা মানে শুধু “তথ্যগতভাবে সঠিক কথা বলা” না। সত্যতা মানে হলো, আমার মুখ, আমার অন্তর আর বাস্তবতা — এই তিনটা যেন এক জায়গায় মিলে যায়। যদি কোনো একটাতে গরমিল থাকে, তাহলেই সেটা একপ্রকার কিযব (মিথ্যা) হয়ে যায়, যদিও কথাটা শুনতে সত্যই লাগছে।

এজন্যই মুনাফিকীকে প্রকাশ্য কুফরের চেয়ে বেশি ভয়ংকর বলা হয়েছে — কাফের অন্তত তার ভেতর-বাহির এক রাখে, কিন্তু মুনাফিক তার মুখ আর অন্তরের মধ্যে একটা ফাঁক তৈরি করে — এবং এই ফাঁকটাই হলো আসল মিথ্যা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সিদক্ব (সত্যবাদিতা) এর তৌফিক দিন — যেন আমাদের মুখ, অন্তর আর কাজ সব এক হয়ে যায়। আমিন।

About Tahin

Muslim • Father • Software engineer • Technologist

More on the blog